Skip to content Skip to sidebar Skip to footer

অবাধ যৌনতা নিয়ে আমার ভাবনা

লেখক: ইয়াছিন আলী

প্রথমেই মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে আমার নিজের ব্যপারে দুই লাইন লিখে মূল আলোচনায় যাওয়া সঙ্গত মনে করলাম। আমি ব্যক্তিগত জীবনে মনোগামী অর্থাৎ শারীরিক সম্পর্কের আগে মানসিক/রোমান্টিক সম্পর্কেই আমার আগ্রহ বেশি। কিন্তু আমার এই আচারণকেই একমাত্র শুদ্ধ আচরণ বলে দাবি করি না।

এখন আসি অবাধ যৌনতার ব্যপারে। অবাধ যৌনতা বলতে আসলে কি বোঝায়? অবাধ যৌনতা বলতে যদি কাছাকাছি রক্তের সম্পর্কের কারও সাথে যৌনতা বোঝানো হয় তবে এই যৌনতার ক্ষতিকর দিক বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। আবার যদি অবাধ যৌনতা বলতে পরকীয়া বোঝানো হয় তবে এই ক্ষেত্র একজনের সাথে চুক্তি ভঙ্গের ব্যপার জড়িয়ে আছে। আবার অবাধ যৌনতা বলতে যদি জোর করে যৌন কার্য বাধ্য করাকে বোঝানো হয় তবে সেটা ধর্ষণ এবং মারাত্মক অপরাধ। এই কয়েকটি বিষয়ের বাইরে গিয়ে অবাধ যৌনতা বলতে যদি বিয়ে না করে যৌনতা, একাধিক ব্যক্তির সাথে যৌনতা অথবা স্থায়ী সম্পর্ক না করে যৌনতাকে বোঝানো হয়, তাহলে অবাধ যৌনতাকে ঘৃণা বা বাধা দেয়ার মতো যৌক্তিক কোন কারণ আছে বলে মনে হয় না। বিয়ে না করে যৌনতাকে অবাধ যৌনতা হিসেবে ঘৃণা করার যৌক্তিক কারণ অন্তত বাংলাদেশসহ অনেক দেশের মানুষের জন্যই নাই। কারণ এখানে বিসমকামী সম্প্রদায়ের বাইরে অন্য সম্প্রদায়ের বিবাহের ব্যবস্থা নাই। তাই বিসমকামীদের বাইরে অন্য সম্প্রদায়গুলোর জন্য বৈধ যৌনতা আর অবৈধ যৌনতা বলে কোন পার্টই থাকছে না। এবার আসি একাধিক ব্যক্তির সাথে যৌনতার ব্যপারে; বাংলাদেশের মতো পরিবেশে সমকামী, উভকামী, রুপান্তরিত / রুপান্তরকামী, আন্তঃলিঙ্গের মানুষদের স্থায়ী সঙ্গি পাওয়ার নিশ্চয়তা নাই বললেই চলে। এর জন্য পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় প্রতিবন্ধকতাগুলো দায়ী। তবুও দুই একজন সঙ্গী পেয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু যারা পাচ্ছে না বা পাবে না তাদের জন্য একাধিক সঙ্গির সাথে যৌনতা ছাড়া কোন উপায় আছে কি? যদি উপায় না থাকে তাহলে এটাকে ঘৃণা করার যৌক্তিক কারণ আছে কি? আবার অনেকে কমিটমেন্ট বা ধরাবাঁধা সম্পর্কের মধ্যে না এসেও শারীরিক সম্পর্ক করেন। অনেকে এটাকে অবাধ যৌনতা ট্যাগ লাগিয়ে ঘৃণা করেন। যারা ঘৃণা করেন তাদেরকে বুঝতে হবে জগতের সবাই মনোগ্যামাস নয় বরং বেশিরভাগ মানুষই পলিগ্যামাস। সেই সাথে আরও একটি বাস্তবতা জড়িয়ে আছে; সেটা হচ্ছে কেউ বার বার স্থায়ী সম্পর্কের চেষ্টা করল, কমিটমেন্টে গেল কিন্তু দেখা গেল বার বার সেই সম্পর্ক ভেঙ্গে যাচ্ছে এবং উক্ত ব্যক্তি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাহলে এই ব্যক্তিরা স্থায়ী সম্পর্কের না জড়িয়ে অস্থায়ী সম্পর্ক করে যৌন কার্য করলে সেটাতে অবাধ যৌনতা ট্যাগ লাগিয়ে ঘৃণা করার কোন কারণ আছে কি?

তাহলে আমি কি অবাধ যৌনতাকে সাপোর্ট করছি? এক্ষেত্রে আমার উত্তর হচ্ছেঃ না সাপোর্ট করছি না আবার হ্যা সাপোর্ট করছি।

আপনি যদি উল্লেখিত প্রথম তিনটি বিষয়কে অবাধ যৌনতা হিসেবে চিহ্নিত করেন তাহলে আমি এই যৌনতাগুলোকে সাপোর্ট করি না। আবার আপনি যদি উল্লেখিত পরের তিনটি বিষয়কে অবাধ যৌনতা হিসেবে চিহ্নত করেন তাহলে আমি অবশ্যই অবাধ যৌনতাকে সাপোর্ট করি। কারণ আমি ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। আর কে কার সঙ্গে যৌনতা করবে এটা আমারা নির্ধারণ করে দিতে পারি না।

তাহলে কি আমি যেখানে সেখানে সেক্স পার্টনারের বিজ্ঞাপনকে উৎসাহিত করছি? না, পার্টনার খোঁজার জন্য বিভিন্ন ডেটিং সাইট আছে সেগুলোতে খুঁজতে পারে। কারণ সেখানে সবাই নির্দিষ্ট কোন করণে যায়। আর ফেসবুক কোন ডেটিং সাইট নয় বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বাস বা কোন পাবলিক ইভেন্টও পার্টনার খোঁজার উপযুক্ত স্থান বলে মনে করি না। কারণ এগুলো কোন পার্টনার খোঁজার স্থান নয়, পার্টনার খোঁজার জন্য বিভিন্ন ক্লাব / বার আছে। দরকার হলে সেগুলোতে যেতে পারেন।

আমি কি রিলেশনে আবদ্ধ ব্যক্তি / বিবাহিতদের অন্যের সাথে যৌনতায় উৎসাহিত করি? না, এই যৌনতাকে একদম সাপোর্ট করতে পারি না। এখানে একটি বিষয় জড়িত সেটা হচ্ছে চুক্তি বা প্রতিশ্রুতি। রিলেশনের শর্ত যদি একগামীতার হয় তাহলে কেউ সেটা লঙ্ঘন করতে পারে না। কেউ গোপনে লঙ্ঘন করলে সেটা প্রতারণা। আর এই প্রতারণা অপর সঙ্গীর উপর তীব্র প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু রিলেশনে যদি একগামীতার কোন শর্ত না থাকে বরং দুজনের সম্মতিতে অন্যের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে তাতে কোন অন্যায় আমি দেখি না।

বিবাহের চুক্তির সাথে একগামী সম্পর্ক, পরিবার ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো জড়িত থাকে। তাই বিবাহের চুক্তিতে স্বাক্ষর করে কেউ অন্য কারও সাথে শারীরিক ও মানসিক কোন সম্পর্ক স্থাপন করলে সেটা চুক্তি ভঙ্গ করার শামিল। যা সঙ্গীর সাথে প্রতারণা। তাই প্রতারণা করার এই পদ্ধতি সমর্থন যোগ্য হতে পারে না।

শুধু মাত্র সমকামীরাই কি বহুগামী? না, সমকামীদের চেয়ে বিসমকামীদের মধ্যেই বহুগামিতা বেশি। দেশে শত শত “লিটনের ফ্লাট” আছে, হাজার হাজার যৌন কর্মী আছে। সেগুলোতে সমকামীরা নয় বরং বিসমকামীরাই নিয়মিত যায়। দেশের পার্ক, রেস্টুরেন্ট, ক্যাম্পাস সমকামীদের জন্য উপযুক্ত নয় বরং এগুলোতে বিসমকামীদের পদচারণনাই বেশি। একজন সমকামী তার আশে-পাশের কাউকে প্রপোজ করার সাহসই পায় না। কারণ কারও শরীরে লেখা থাকে না সে সমকামী। ভুলক্রমে একজন বিসমকামীকে প্রপোজ করে বসলে চরমভাবে অপমানিত হওয়ার ভয় থাকে। তাই বিসমকামীরা যতটা সহজে একাধিক সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়ে পড়তে পারে, সমকামীরা সেটা পারে না। প্রায় দেশেই একাধিক বিবাহ স্বীকৃত। আর একাধিক বিবাহ মানেই বহুগামিতা। আর এই সুযোগটা বিসমকামীরাই বেশি গ্রহণ করে।

যেসব ধর্মগুরুরা বহুগামিতার বিরুদ্ধে খড়গহস্ত তারা কি বহুগামিতা থেকে মুক্ত? একাধিক বিবাহ মানেই তো সেখানে বহুগামিতার উপস্থিতি। আর এই সব ধর্মগুরুরা বহুবিবাহের সবচেয়ে বড় সমর্থক। এদের ধর্ম প্রণেতারা ডজনখানেক বউ এবং অসংখ্য যৌনদাসী রেখেছিল। আর সেই ধারাবাহিকতাকে এখনও অনেক ধর্মগুরু বজায় রেখেছে। তাহলে সমকামীদের প্রতি অবাধ যৌনতার ট্যাগ লাগিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানো এই ধর্মগুরুদের ভন্ডামো মাত্র। আর এই ভন্ডমোতে অনেকেই না বুঝেই প্রভাবিত হয়। যেটা কখনই কাম্য নয়।

আশা করি অনেকের ভুল ধারণাগুলো দূর হবে ।

What's your reaction?
0Smile0Angry0LOL0Sad0Love

Add Comment