Skip to content Skip to sidebar Skip to footer

ক্ষণিকের ভালোবাসা

এই মেঘমালা গুলো ও আমাকে নিয়ে খেলতে শিখে গেছে ।এই আকাশটা একটু আগে কত পরিষ্কার ছিল , হঠাৎ চোখের পলকের মধ্যে আঁধারে আছন্ন হয়ে গেল । ঠিক  যেভাবে তুমি আমার জীবন থেকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলে,আলো থেকে অন্ধকার করে দিলে আমার জীবনটা ‌।জানি না আজ আকাশে এত ঘনঘটা  কেন? কেন এতো কালো মেঘে আছন্ন হয়েছে? হয়তো আবার ও তার কথা মনে পড়ছে বলে । কিন্তু একসময় তো এই একই আকাশে তুমি আর আমি কত উড়ে বেড়াতাম , কিন্তু হঠাৎ কেন আমার থেকে সেই উড়ার স্বাধীনতা কেড়ে নিলে। সবার কপালে তো আর সুখ লেখা থাকে না, সেই ভেবে তোমাকে প্রতিনিয়ত ভুলার চেষ্টা করি । কিন্তু কখনো ও কি পেরেছি তোমাকে একবিন্দু পরিমাণ ভুলতে ? ভুলতে গিয়েও  তোমার স্মৃতিগুলো আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গিয়ে তোমায় আরো বেশি ভালোবেসে ফেলেছি গো।
তোমায় আকাশ ভেবেছিলাম,মেঘ হয়ে ভাসতে চেয়েছিলাম তোমার বুকে। কিন্তু হঠাৎ করে দেখি তোমার ছায়ায় কোন চিহ্ন নেই আমার হৃদয় জমিনে।কত স্বপ্ন দেখেছিলাম তোমাকে নিয়ে আজ সব মিছে অভিনয়।এ পাশ ওপাশ সবটুকু জুড়ে নিজের মতো করে উড়ে বেড়াতাম তোমার আকাশে একসময়, কখনো তোমার আলিঙ্গনে মিশিয়ে নিতে নিজের সাথে… একাত্ম হয়ে ওঠার সেই মুহূর্তে বিলীন হয়ে যেতাম তোমার মাঝে, থাকতো না আর আলাদা কোনো অস্তিত্ব। দুজনে মিলেমিশে একাকার হয়ে যেতাম আমরা ।আজ  এসব শুধু  তোমার কাছে তুচ্ছ কিছু স্মৃতি। কিন্তু  আমার কাছে এসব অমূল্য সম্পদ, বেঁচে থাকার সোনার কাঠি।
সত্যি জীবন আমাকে কতকিছু শিক্ষা দেয় , আমরাই সেই জীবন থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয় বলে কোন উন্নতি করতে পারিনা ‌।
জানো প্রীন্স, তোমাকে হয়ত সেদিন ভালোবাসার প্রস্তাব আমি না দিতাম , তবে আজ এত কষ্ট আমাকে পেতে হতো না । আমি না হয় তোমার উপর আকৃষ্ট হয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু তুমি কেন সেদিন গ্রহণ করলে আমাকে।হয়তো ভালোবাসার অভিনয় করেছিলে। যখন আমার প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে, তারপর উপর থেকে নীচে ছুড়ে মারার জন্য। বিশ্বাস করো , তোমার ভালোবাসার অভিনয় আমি কখনো বুঝতে পারিনি ।হয়তো পেরেছিলাম , কিন্তু কখনো নিজের মনে সেসব নিয়ে তেমন জল্পনা কল্পনা করেনি।  ভেবেছিলাম তুমি মানুষটা ওইরকম ।তোমার অবহেলা গুলোকে তোমার ভুল ভেবে, আবার ও তোমার প্রেমে হাবুডুবু খেতাম । সত্যি আমি কত বোকা কিছিমের লোক ছিলাম । আসলে ভুল , বোকা ছিলাম না তোমার প্রেমে অন্ধ ছিলাম । তুমি যা বুঝাতে তাই তোতাপাখির মতো আওড়াতে থাকতাম। কারন আমি তোমাকে যে নিজের থেকে ও বেশি বিশ্বাস করতাম ,আর যাকে ভালোবাসি তাকে বিশ্বাস করা কি অস্বাভাবিক কিছু? তুমি আমাকে ঠকিয়েছে কত বার , কিন্তু আমি সময় নিয়েছি তোমাকে চিনার জন্য বারবার । তুমি বদলে গিয়েছিলে , আমাকে শুধু ভালোবাসতে শুরু করলে । কিন্তু হঠাৎ তোমার কি হয়ে গেল , বসন্ত ঋতুর মতো কেন উধাও হয়ে গেলে তুমি ?

৫ বছরের ও বেশি তোমার সাথে ছিলাম । কখনো তোমাকে দেখে বুঝতে পারে নি , তুমি জীবনে কখনো আমাকে ছেড়ে চলে যাবে।
তোমার মনে পড়ে সেই প্রথম
দিনের কথা গুলো!
আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম । তোমার প্রিয় হলুদ রঙের পান্জাবি পড়ে। ১০ টায় আসার কথা ছিল , কিন্তু ১১ টা বেজে গেল তবু তুমি আসলে না ।ফোনটা ও বন্ধ করে রেখেছিলে, আমার খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছিল ।কি করব? কিছু বুঝছিলাম না ।তাই চুপটি করে ওই রোদের মধ্যে অপেক্ষা করছিলাম ,আর তোমাকে নিয়ে নানান স্বপ্ন দেখছিলাম।
তুমি হঠাৎ করে  পিছন থেকে এসে,আলতো করে চোখ দুইটা চেপে ধরলে।
তোমার হাতের ছোঁয়া পেয়ে আমার শরীরটা যেন বিদ্যুত চমকে গেল।
–হয়েছে হাত ছাড়, আমার লাগছে চোখে । এতক্ষণ পরে এসে ঢং করা হচ্ছে বুঝি ।
যাও তোমার ওপর রাগ করছি ,কথা বলব না। 
–এই কান ধরছি , আর এমন হবে না ।তোমার জন্য এটা আনতে গিয়ে দেরী হয়ে  গেল , না হয় আরো একটু আগে আসতাম ।
–এসব কেন আনতে গেলে তুমি ? আমি তো তোমার জন্য কিছুই আনিনি।
–আমার সামনে এতো বড় একটা উপহার দাঁড়িয়ে আছে । তুমিতো আমার সব ।আজ একবছর থেকে এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম।কবে আমার কলিজার টুকরাকে দেখব নিজের চোখে। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো।(এই বলে আমাকে জড়িয়ে ধরলে)
আর কি লাগে বলো ? দেখ এটা খুলে  পছন্দ হয়েছে কিনা?
–হুম খুব পছন্দ হয়েছে।
জানো তোমার ওই উপহার গুলো এখন ও আমি স্বযত্নে রেখেছি । যখন তোমার কথা মনে পড়ে  এসব খুলে দেখি , আর চক্ষু থেকে বর্ষনের সৃষ্টি হয়। 

আমার চোখে বর্ষন হোক বা প্লাবন সেটা তো তোমার দৃষ্টির অগোচরে রয়েছে । জানি এই কান্নার কোন ফলাফল নেই ।  তবু হঠাৎ হঠাৎ চিৎকার করে উঠি , পাগলের মত কান্না শুরু করে দেয় । যখন তোমার কথা মনে পড়ে , যখন তোমার জন্য মনটা হাহাকার করে উঠে । তখন কেন যেন , আমার মনটা তোমার জন্য তুমি; তুমি বলে মাতম করে বেড়াই।  তুমি চলে যাওয়ার পর তোমার চেনা জানা সব বন্ধু , আত্মীয় সবার বাড়ি চষে বেড়িয়েছি , কিন্তু তোমার খোঁজ কোথাও পাইনি ।

আমার এই পাগলা মনঘোড়া লাগাম ছিঁড়ে শুধু তোমাকে খুঁজতে থাকে , তারপর কিছুক্ষণ পর খুব কষ্ট করে সেই লাগামহীন ঘোড়াকে নিজের আয়ত্তে এনে নিজেকে শান্তনা দেয়।  আমি তো সত্যি তার গন্তব্যে পৌঁছাতে এখন আর পারিনা , সে যে আমাকে লুকিয়ে অনেক দূরে পালিয়ে গিয়েছে। জানিনা কোন রাজ্যে গিয়ে ,কোন সিন্দুকে তুমি লুকিয়ে আছো ।
সে স্থান আমার অজানা , আমার দৃষ্টির অগোচরে ও বটে। তবে তুমি যদি আবার ফিরে আসো আমার কাছে , আমাকে ঠিক সেখানেই পাবে । ঠিক যেখানে তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলে । 
আজকাল শিউলি , নয়নতারা ,গোলাপফুলের গাছগুলোতে ও ফুল ফুটে না , নেতিয়ে পড়েছে গাছগুলো।  তুমি আর আমি দুজনে কত যত্ন করেই না ওই ফুলের বাগান করেছিলাম । পারিনা আর আগের মতো পরিচর্যা করতে গাছগুলো , যখন বাগানের দিকে তাকায় শুধুই তোমার কথা মনে পড়ে । পেরে উঠি না আর একা একা , এতকিছু সামলাতে। আমার বেশিরভাগ সময় কেটে যায় তোমাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে।
জানো আজকাল  ঠিকমতো কাজ , খাওয়া কিছু হয়ে উঠে না । তোমার সাথে কাটানো প্রতিটি ক্ষণ সবসময় আমার মনে পড়ে ।প্রতিটা রাতে আমি ছটফট করি , ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না । তোমার একাকীত্ব আমাকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে প্রিন্স। আজ আমার আপনার বলতে তো কেউ নেই শুধু তোমার জন্য । তোমাকে পাওয়ার জন্যে সব ছেড়েছিলাম । পরিবার , বন্ধু সবার চোখে অপরাধী হয়েছি , খারাপ সেজেছি শুধুমাত্র তোমাকে একান্তভাবে পাওয়ার জন্য। তোমার জন্য আজ আমি সর্বকূল হারা।
তোমাকে ভালোবেসে কি খুব বেশি অন্যায় করেছিলাম ?

তোমার কি মনে পড়ে সেদিনের কথা , যখন আমি সব ছেড়ে পালিয়ে তোমার কাছে চলে এসেছিলাম । তখন আমাদের দুজনের কতই না সংগ্রাম করতে হয়েছিল । দিনের পর দিন আমি সেহেরি না করে ও রোজা ছিলাম , অবশ্য তখন তোমার হাতের অবস্থা ও তেমন ভালো ছিল না ।সে অনুযায়ী তুমি আমার জন্য অনেক কিছু করতে , তখনকার সেই কষ্টের দিনগুলোই অনেক ভালো ছিল আমার জীবনে। তোমার ভালোবাসার পবিত্রতা সেটা খুঁজে পেতাম তখন , আমার জন্য তুমি ও না খেয়ে দিন কাটিয়ে দিতে ।অবশ্য খুব তাড়াতাড়ি তুমি আমাকে একটা কোম্পানিতে চাকরি ও খুঁজে দিলে , তারপর পড়াশোনার ব্যাবস্থা ও করলে ।  সেই খারাপ দিনগুলো শেষে , আমরা যখন ভালো দিন দেখতে শুরু করলাম । কিন্তু সেই মূহূর্তে তুমি …

আচ্ছা আমার দেওয়া শেষ দেওয়া উপহার, নীল পাঞ্জাবি আর ঘড়ি কি তুমি ব্যাবহার করেছিলে ?নাকি আমাকে ভুলে যাওয়ার সাথে সাথে সেসব কোন সামগ্রী তোমার জীবনে কোন ছাপ ফেলেনি।
সেই পাঞ্জাবি আর ঘড়ি পড়া অবস্থায় তোমাকে,আমার দেখার সোভাগ্য হয়ে উঠেনি ।হয়তো সেসব তুমি রাস্তায় ছুড়ে ফেলেছ, যেভাবে আমাকেও….. কষ্ট হয় জানো প্রিন্স তোমার সেইসব প্রতিজ্ঞাগুলোর কথা মনে পড়লে , তুমি তো সেই মানুষটি ছিলে তাই না? যে একসময় বলতে সারাদুনিয়া একদিকে আর আমি একদিকে। তুমি তোমার স্মৃতিশক্তি হাড়িয়ে ফেললে ও নাকি তুমি আমার কথা ভুলবে না। কিন্তু আজ তো সুস্থ মানুষ হয়ে ও কিভাবে আমাকে ভুলে দিব্যি ভালো আছো।  আমি এখনো ঢাকায় আছি , সেই পুরানো আমাদের বাসায় । যেখানে তোমার আমার হাজার ও সৃত্মি  গাঁথা রয়েছে ।সেসব কথা গুলো মনে করে করে আমি এখনো বেঁচে আছি । কেন জানি না বড্ডো বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে , তুমি একদিন ফিরে আসবে ঠিক এই বাসাতে । তুমি আর আমি আবার ও সংসার শুরু করব  আগের সেই সোনালী দিনগুলোর মতো।
সেদিন তোমাকে পাবার জন্য কত কিছু আত্মত্যাগ করেছিলাম। নিজ পরিবারের লোকজনকে ভুলেও যেতে দুবার ও ভাবিনি । নিজের সুন্দর ভবিষ্যৎ , সবকিছু ফেলে চলে এসেছিলাম তোমার ভালোবাসা পেতে । কিন্তু বিনিময়ে কি পেলাম তোমার একরাশ অবহেলা , আর আমার ক্ষতবিক্ষত হৃদয়। আমি যাকে আমার পুরো শহর টা দিলাম সে আমাকে তার শহরের গলিও ভাবলনা। যার জন্য রাত বিরাতে অপেক্ষা পুষলাম সে আমাকে উপেক্ষা ছাড়া কিছুই দিলনা।

তুমি আমাকে ভালোবেসেছিলে আমি না চাইতেই, আর যতই আমাকে ভুলে যাও না কেন আমি তোমাকে কখনোই ভুলতে পারবো না। তুমি যে আমার শরীরের প্রত্যেকটা কোনায় কোনায় মিশে আছো। কিন্তু আমি কি এখনো তোমার সেই মনের এক কোনাতে ও রয়েছি? নাকি পেন্সিলের লেখার মতো সব লেখা রবার দিয়ে মিশিয়ে দিয়েছে?
যেদিন আমি প্রথম  ঢাকায় তোমার কাছে এসেছিলাম , সেদিন আমি সব কিছু ছিন্ন করে তোমার কাছে এসেছিলাম। তুমি তো আমাকে সাদরে গ্রহণ করে বিয়ে করেছিলে । ছেড়ে যদি যাবে , তবে কেন এসব মিথ্যা অভিনয় করেছিলে?  কতই সুন্দর আমাদের দিন কাটত , ভাবতে ভাবতে হঠাৎ করে একটা টুং টুং শব্দ করে মেসেজ আসল।  হটাৎ অচেনা নাম্বার থেকে মেসেজ ,
মেসেজ টা দেখে চোখ আমার কপালে উঠে যাওয়ার উপক্রম হলো । এই নামে তো কেউ আমাকে কখনো কেউ ডাকেনি , সে ছাড়া । তবে কি সে আমাকে মেসেজ করল “অর্নব কেমন আছো” বলে ।
না এমন হতে পারে না , ছয় মাসের ও বেশি  হয়েছে সে আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে । এতদিন পর কেন সে কেন ফিরে আসবে।  আমি তো তাকে কখনো কোন কষ্ট দেয় নি , তার সুখের জন্য জীবনের সব সুখ বিসর্জন দিয়েছি । তাও বিনা কারণে আমার সব স্বপ্ন তছনছ করে সে পারি দিয়েছিল অজানা দেশে ।মোবাইল মেসেজ কেনা ছিল , আমি একটা মেসেজ করলাম ।”কে আপনি ? আমার নাম অর্নব সেটা জানলেন কিভাবে ।”

ওইপার থেকে কোন উত্তর না পেয়ে , অধৈর্য হয়ে পড়ছিলাম ।
নিজেকে সামলাতে পারলাম না , অচেনা ওই নাম্বারে কল দিলাম । পাঁচ-ছয়বার রিং হওয়ার পর ও ওইপার থেকে কেউ ফোন ধরল না । তারপর ভাবলাম থাক , আমি যদি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয় তিনি নিজেই কল দিবে । বসে বসে প্রিন্সের পুরনো ছবিগুলো সব চোখ বুলাচ্ছিলাম   , ওর দেওয়া সব উপহার গুলোও । এর মধ্যে কল আসল , আমি তাড়াহুড়ো করে কলটা রিসিভ করলাম ।
হ্যালো কে বলছেন? আপনি কে ? আমাকে কিভাবে চিনেন ? আমার ডাকনাম আপনি কিভাবে জানলেন ?
আমি এত প্রশ্ন করার পর ও ওইপার লোক টা নীরবে শুনে যাচ্ছে ।
কিছুক্ষণ পর একটা কন্ঠ ভেসে আসল , –আমাকে ক্ষমা করা যায় না অর্নব । আমাকে কি ঠিক আগের মতো ভালোবেসে তোমার সাথে রাখবে ? বলনা তুমি আমাকে ক্ষমা করবে ? আসলে ওই সময়ে আমি কি করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না । কি হলো কথা বল অর্নব .. অর্নব…
–কি বলব আমি ? তোমাকে ক্ষমা করার বা কে আমি ?  আমাকে এত কষ্ট দিয়ে খুব সুখ পেয়েছ বুঝি ? একবার ও কি মনে পড়ে নি আমাকে?
—বাবু তুমি জানো না । আমি কি ধরনের মেন্টাল প্রেশারের মধ্যে ছিলাম । নিজেকে বহুবার শেষ ও করে দিতে চেয়েছি । কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরে উঠেনি, পরিবারের চাপের মুখে নিজেকে ‘বলি ‘ দিয়েছি আমি । কাল কি তোমার সময় হবে একটু দেখা করার জন্য ?
–জীবনের সব সময় তোমার জন্য তোলা রয়েছে ‌ । ‘বলি’! বলতে তুমি কি বুঝিয়েছ পরিষ্কার করে বলবে ।
–তারা আমাকে জোর করে বিয়ে দিয়েছিল , মেয়েটা ও জানত আমি সমকামী । তবু সে নারাজ হয়নি । কিন্তু আজ ছয়মাস পর মেয়েটি নিজেই আমাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে গিয়েছে । শুধু এই একটি কারণে আমি লজ্জা , ঘৃণা ,ভয়ে তোমার সাথে কথা বলিনি এতদিন ।আজ থেকে আমি স্বাধীন , আমি শুধু তোমার । এখন তো আমি বাসাতে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি আমার বিষয়টি । শুধু সকাল হওয়ার অপেক্ষা তারপর তুমি শুধু আমার ।
-এই আমি কি জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছি । না তুমি সত্যি বলছো । আমি যে কান্না থামিয়ে রাখতে পারছি না প্রিন্স
–যাইহোক আর কান্না করবে না । এখন শুধু হাসবা । আর লক্ষি বাবুর মতো এখন ঘুমিয়ে পড় ।শুভরাত্রি অর্নব ।
–শুভরাত্রি । কাল তোমার আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা বকুলতলায় সকালে চলে এসো ।

কাল সকাল টা অন্যান্য দিন থেকে আলাদা
হবে , এসব  ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি । হঠাৎ সকাল প্রিন্সের ফোনে আমার ঘুম ভাঙ্গল । কোন রকমে ফ্রেশ  হয়ে ওর দেওয়া সে নীল পাঞ্জাবি টা পড়লাম । তারপর  রিকশায় করে সোজা বকুলতলায় চলে আসলাম। আমি আসার অনেক পূর্বে সে এসে হাজির হয়েছে হয়ত ‌।
–তুমি তো আমার আগে চলে এসেছো আজ।তা কখন থেকে অপেক্ষা করছ।
–আজ তো আমাকে আগে আসতে হতো । এইতো কিছুক্ষণ হল । এইভাবে দাঁড়িয়ে কথা বলবে ? না আমার পাশে এসে বসে একটু আদর করবে।
–লজ্জায় মুখটা একদম লাল হয়ে গেল । কতদিন ওর ছোঁয়া , ওর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত ছিলাম । এক দূরে গিয়ে ওরে ঝাপটে ধরলাম । আর কখনো আমাকে ছেড়ে চলে যাবে না তো ? আর কখনো আমায় কাঁদাবে নাতো ? তোমায় আমি ক্ষণিকের কথায় ভালো বেসে ফেলেছিলাম , বিশ্বাস করেছিলাম , আশ্রয় বেঁধেছিলাম তোমার বুকের কুটিরে। কিন্তু হঠাৎ দমকা হাওয়ায় তুমি …
—পিল্জ অর্নব আজ আর কান্না নয় । তবে আমি ও কিন্তু কান্না করে দিব একদম।
—পারছি না গো থামাতে । আজ তুমি আমাকে থামিও না , কাঁদতে দাও । এই কান্না না করলে আমি সুখ পাব না , এই কান্না যে তোমাকে ফিরে পাওয়ার কান্না । মানুষ মনে হয় একেই আনন্দ অশ্রু বলে। এই হাতটা ছেড়ে আর কখনো চলে যাবে না তো ।
—না বাবু ,আর কখনো নয় । আজ থেকে তুমি শুধুই আমার । আমাদের ক্ষনিকের আলাপে ভালোবাসার মধ্যে কোন ভুল ছিল না । হতে পারে আমাদের ভালোবাসা খুব তাড়াতাড়ি অল্প সময়ের মধ্যে হয়েছিল । কিন্তু আমাদের ভালোবাসার মধ্যে কোন খাদ ছিল না ।
–সত্যি আমার কাছে সবকিছু রূপকথার গল্পের মতো লাগছে । তোমাকে এভাবে ফিরে কখনো পাব , সেটা আমি জীবনে কল্পনা করি নি । তবে আশায় ছিলাম ,হয়ত তুমি কোন একদিন ফিরে আসবে আমার ভালোবাসার টানে । সত্যি আমি হয়ত একটু বেশি ভাগ্যবান , তাই তোমাকে আবার ফিরে পেলাম ।
–আজ থেকে প্রত্যেক দিনের শুরুতে তোমায় মনে ভেবে দিনকে আলোকিত করব, প্রত্যেক বিকেলে তোমাকে গোধুলী আকাশে মনের মত করে সাজাব, প্রত্যেক সন্ধায় শুক তারার মত করে আমার পাশে তোমাকে রেখে তারাগুলো একসাথে গুনব।

এভাবে হয়ত প্রিন্স আর অর্নব আবার ও সুখের সংসার করবে , দুজনে  আবার দুজনায়

ভালোবাসার হারিয়ে যাবে অন্য রাজ্যে। কিন্তু গল্প এমন হলে ও বাস্তবতা এর চেয়ে কঠিন । তবে কিছু বাস্তবতা এসব গল্পকেও হার মানায় । ভালো থাকুক সকল ভালোবাসা , ধর্ম ,বর্ণ, লিঙ্গ সবকিছুর উপরে ভালোবাসা জয়ধ্বনি হোক সর্বত্র।

What's your reaction?
0Smile0Angry0LOL0Sad0Love

Add Comment