Skip to content Skip to sidebar Skip to footer

ধর্ম,ধর্মান্ধতা ও সমকামিতা

লেখক: ইয়াছিন আলী

ধর্ম হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস। আর বিশ্বাস মানেই হচ্ছে স্পর্শকাতর ইস্যু। মানুষ অজানা বিষয়ে বিশ্বাস করে। এই বিশ্বাসের মাধ্যমে মানুষ ভাল থাকতে চায়। চরম হতাশার মধ্যেও বিশ্বাস করে তাকে কেউ অদৃশ্য থেকে সাহায্য করতে আসবে। সত্য হোক বা মিথ্যা হোক এই বিশ্বাসগুলোর মাধ্যমে মানুষ যদি ভাল থাকে তবে আমার কিছুই বলার নেই। কারণ একজন ব্যক্তি নিজেকে ভাল রাখার জন্য ব্যক্তি জীবনে কি বিশ্বাস করবে না করবে সেটা তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। এই ব্যক্তিগত বিশ্বাসই যদি ধর্ম হয় তাহলে তা নিয়ে আমি কথা বলতে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করি না। কারণ তার এই বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের কারণে আমার লাভও নাই আবার ক্ষতিও নাই। এজন্যই মনিষি আব্রাহাম লিংকন ধর্ম সম্পর্কে বলেছিলেন ,” It is merely a metter between man and god অর্থাৎ এটি মানুষ এবং ঈশ্বরের মধ্যেকার একটি ( আধ্যাত্মিক ) বিষয় মাত্র”। মানুষ যদি ব্যক্তিগত জীবনেই এই বিশ্বাসগুলোকে সীমাবদ্ধ রাখে তাহলে সমাজে দাঙ্গা হাঙ্গামাগুলো হওয়ার কথা নয়। একটি সমাজে নানা পথ ও মতের মানুষ বাস করবে এটাই স্বাভাবিক ব্যপার। এই নানা পথ ও মতের মানুষগুলো নিজের জীবনে নিজের বিশ্বাসকে অপরের ক্ষতি না করেই লালন করে সহাবস্থান করলেই সেটাই হবে আদর্শ সমাজ। কিন্তু এক মতের বা বিশ্বাসের মানুষ যদি মনে করে আমার নিজের বিশ্বাসই সর্ব সেরা ,সবাইকে আমার বিশ্বাস অনুযায়ি চলতে হবে এবং না চললে হত্যা করতে হবে , তাহলে আমি এটাকে ঘৃণ্য চিন্তা এবং ধর্মান্ধতাই বলব। এই ঘৃণ্য চিন্তা ও অন্ধত্বের কারণে সমাজে ছড়িয়ে পড়ে দাঙ্গার মতো ঘৃণ্য অপরাধ,তৈরী হয় ভিন্ন চিন্তার মানুষের প্রতি বিদ্বেষ,এক জাতী আরেক জাতীর বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মেতে ওঠে। ধর্মান্ধতা সমাজকে কখনই ভাল কিছু উপহার দিতে পারে নি এবং কখনও পারবেও না। এবার আসি সমকামিতা প্রসঙ্গে। সমকামীসহ অন্যান্ন যৌন প্রবৃত্তিগুলোর গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে ধর্ম এবং ধর্মান্ধতার একটা সম্পর্ক আছে। প্রচলিত আব্রহামিক ধর্মগুলো বিসমকামী যৌনতা ছাড়া অন্য কোন যৌনতার স্বীকৃতি দেয় না। তো এই ধর্মগুলো যারা অনুসরণ করেন তারা একটাই কাজ করতে পারেন তা হচ্ছে নিজেরা এই কাজগুলো না করা। কে কার বিছানায় কাকে সঙ্গি করবে এটা নিয়ে কারও মাথা না ঘামানোই উচিৎ। কেউ যদি আমার বিশ্বাস বা আদর্শ মতো না চলে তাতে আমার বিশ্বাস বা আদর্শ উবে যাচ্ছে না। আজ পর্যন্ত যতগুলো রাষ্টে সমকামীদের বৈধতা দেয়া হয়েছে কোথাও এই আইন করা হয়নি যে বিসমকামী ব্যক্তিদের জোর করে সমকামী বানাতে হবে। সেখানে সমকামীরা নিজেদের পছন্দ মতো সঙ্গি নির্বাচন করতে পাচ্ছে আবার বিসমকামীরাও নিজের মতো করে চলতে পাচ্ছে। একটা আদর্শ রাষ্ট্রের ভূমিকা হচ্ছে এটাই, যেন প্রতিটি নাগরিক সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। একটি আদর্শ রাষ্ট্র এক শ্রেণির মানুষের বিশ্বাসের জন্য অন্য আরেক শ্রেণির মানুষের জীবন যাত্রা ব্যাহত হয় এমন আইন করতে পারে না। সমকামিতা যাদের বিশ্বাসে গর্হিত কাজ তারা সমকামীদের এড়িয়ে চলতে পারেন। এড়িয়ে চলার পরও যদি কেউ আপনাকে জোর করে যৌন কার্য করে তবেই তার বিরুদ্ধে আইনানু্গ ব্যবস্থা নিতে পারেন। কিন্তু কারও কোন ক্ষতি না করা সত্বেও শুধুমাত্র সমকামী হওয়ার কারণে কেউ যদি সমকামীদের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন,বিদ্বেষ ছড়ানো বা হত্যা করতে হবে এরকম চিন্তাধারা পোষণ করেন তবে সেই চিন্তাধারাকে আমি উগ্র ধর্মান্ধ চিন্তাধরাই বলব। প্রতিটি মানবতাবাদী মানুষ এই রকম উগ্র ধর্মান্ধ চিন্তাধারাকে ঘৃণাই করবে। ধর্মান্ধদের একটা বিষয় মনে রাখা উচিৎ যে স্থান,কাল,পরিস্থিতিভেদে বিশ্বাসের ভিন্নতা এবং পরিবর্তন হয় কিন্তু একজন মানুষ যে যৌন অভিমুখিতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে তা স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করা যায় না। তাই সমকামীসহ অন্যান্ন যৌন পরিচয়ের মানুষকে বিসমকামী যৌনতায় পরিবর্তন করার চেষ্টা না করে বরং ধর্মান্ধদের উচিৎ নিজেদের চিন্তাধারার পরিবর্তন করা।

What's your reaction?
0Smile0Angry0LOL0Sad4Love

Add Comment