Skip to content Skip to sidebar Skip to footer

প্রথম প্রেম

আমার নাম আদি। ছোট্র একটা গ্রামে আমার জন্ম। জন্মের আগে আমার বাবা মারা যায়। পরিবারের অবস্থা ভালো ছিল না, তাই মা-বাবা দুই জনে মৌলভী ও গ্রামের মাতব্বরের বাড়িতে কাজ করতো। আমার বয়স যখন দশ, তখন থেকে আমার জীবনে নতুন একটা অধ্যায় শুরু হয়। মাতব্বরের একটা ছেলে ছিল যে বয়সে আমার থেকে দুই-তিন বছরের বড়। তার আর আমার মধ্যে খুব ভাব ছিল – এক সাথে থাকা, ঘুরাফেরা সব এক সাথে। তার মধ্যে মাতববর সাহেব আমাকে খুব আদর করতেন।

আমি মনে করতাম, আমার বাবা নেই তাই হয়তো একটু বেশি আদর করতেন। কিন্তু তার মনে ছিল অন্য খেয়াল। আমি আর মাতববরের ছেলে (খোকা) দুই জন দুই জনকে ছাড়া থাকতে পারতাম না। প্রথম যৌবনে পা দিলাম – তখন সাধারণত ছেলেরা মেয়েদের নিয়ে ভাবে। আমি আর খোকা ভাবতাম শুধু দুই জন দুই জনকে নিয়ে। একদিন রাতে দুই জনে দুষ্টুমি করতে করতে খোকা হঠাৎ করে আমার গায়ের উপর উঠে পরে। আমার তেমন খেয়াল ছিল না। কিছুক্ষণ পরে আমি খোকার একটা গরম নিশ্বাস অনুভব করলাম। তখন দেখি খোকার ঠোট আর আমার ঠোঁট এক হয়ে গেল। সে কি সুখ! জীবনে প্রথমবার এমন সুখ অনুভব করলাম। তারপর আমার হাত-পা আস্তে আস্তে সুখে আচ্ছন্ন হয়ে গেল। আমার খুব ভাল লাগলো৷ আমি তাকে আমার দুই বাহু দিয়ে আরো আপন করে নিতে চাইলাম।

তখন সে কিরকম যেন আগুনের মত হয়ে গেল। আমাকে এমন একটা চাপ দিল, যে আমি খুব ব্যাথা পেলাম আর খোকা খুব ক্লান্ত হয়ে পড়লো। দুজন আরো আপন হয়ে গেলাম। আমার মনে হচ্ছিল যে পৃথিবীতে আমি সব থেকে সুখী। পরের দিন দুজনের মাঝে শারীরিক সম্পর্ক হয়ে গেল। আমি মহা খুশি, কিন্তু খুব ব্যাথা পেয়েছি। পুরো শরীরটা ব্যাথা হয়ে গেছে, গায়ে জ্বরও হলো। খোকা আমার জন্য ঔষধ নিয়ে আসলো। মা বললোঃ “আদি, তোর হঠাৎ এতো জ্বর হলো কেন? চল ডাক্তারের কাছে যাই”। আমি লজ্জা পেলাম আর বললামঃ “মা তেমন কিছু না – এমনি ভালো হয়ে যাবে”।

এমন সময় দেখি খোকা ঔষধ নিয়ে এসেছে। এভাবে চলতে থাকে – দুই জন খুব সুন্দর সময় কাটাচ্ছিলাম। একদিন রাতে খোকা কোথায় যেন গেছে – আমাকে বলে যায়নি। তার আসতে দেরি হচ্ছে দেখে আমি দরজা বন্ধ করিনি। আগে বলে রাখি যে মাতব্বর সাহেব নানা বাহানায় আমাকে কাছে পেতে চাইতো। আমি লজ্জায় কাউকে বলতে পারতাম না। মৌলভী, হাজী, মাতব্বর, এমন একজন সম্মানী মানুষ যে আসলে একজন কুচরিত্র সেটা কেউ বিশ্বাসও করবে না। আমি ঘুমাচ্ছিলাম আর হঠাৎ দরজা খোলার শব্দ হলো। আমি মনে করেছি খোকা এলো বুঝি। কিন্তু একজন মানুষ কাছে এসে আমার গায়ে যখন হাত রাখলো, আমি চোখ মেলে দেখি মাতব্বর সাহেব। আমি ভয়ে কান্না করতে শুরু করলাম। উনি আমাকে জোর করে চাপ দিতে শুরু করলেন। আবার তার মধ্যে মনে হলো কেউ যেন আসছে। আমি তাই আরও বড় করে কান্না শুরু করি। দেখি খোকা! খোকা বলে উঠলোঃ “কী হয়েছে, কান্না করছো কেন”? আমি চুপ করে রইলাম। তার বাবাকে দেখে সে ভয় পেয়ে গেছে। খোকা বাবাকে বললোঃ “আপনি এখানে কেন”? উনি উত্তর দিলেন যে আদি ভয় পাচ্ছিল তাই তিনি তাকে দেখতে এসেছিলেন। উনি চলে গেলেন।

পরের দিন সকাল থেকে মাতব্বর সাহেব আমার সাথে কোনো কথা বলেননি। আমি একটু আশ্বস্ত হলাম ঠিকই, কিন্তু মনের ভেতর ভয় রয়ে গেল। তবে আমার আর খোকার চলতে থাকে আনন্দঘন দিনগুলো। কিছু দিন পর খোকা আর তার মা আত্মীয়র বাড়ি বেড়াতে গেল। আমি আমার মাইয়ের সাথে আমাদের ঘরে চলে এলাম। এশার নামাজের পর মাতব্বর সাহেব লোক পাঠিয়েছে আমাকে ডাকতে। আমার ভয় শুরু হলো – যাব না ঠিক করেছি। মা বললোঃ “ডাকতে যখন পাঠিয়েছে তো যাও। তোমার বাবার সমতূল্য তিনি”। আমি আর না করতে পারলাম না। যাই হোক, আমি গেলাম। আমাকে দেখে তিনি ভীষন খুশি৷ বললেন হাত-পাগুলো টিপে দিতে। তিনি বললেনঃ “আমি খুব ক্লান্ত আর তাছাড়া তোর চাচিও নাই। আমি একা, কখন কি হয় বলা যায় না তাই রাতে আমার সাথে থাকবি”। ভয়ে আমার কান্না শুরু হয়ে যায় যায় অবস্থা। আমি উনার হাত-পা টিপতে টিপতে উনি আবার শুর করে দিলেনঃ “আমার সাথে যুদ্ধ করতে কি পারবি”? দুই জনে যুদ্ধ করতে করতে আমি হাতের কাছে একটা ছুরি পেলাম। ওটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম কিন্তু তারপরও উনি থামলেন না। নিজের জীবন রক্ষা করতে সেটা বসিয়ে দিলাম। উনার কপালে রক্ত বের হচ্ছে – আমি বোবা প্রাণীদের মত হয়ে গেলাম। ভাবিনি এভাবে লেগে যাবে। আমি তাডাতাডি বেরিয়ে গেলাম।

উনার চিৎকারে পাশের মানুষজন জড়ো হয়ে গেল। তিনি বলে দিলেন আমি চুরি করছিলাম দেখে উনি বাধা দিলে আমি উনাকে ছুরির আঘাত করি। আমি বাড়ি গিয়ে মাকে সব খুলে বলে দিলাম৷ মা প্রথমে বিশ্বাস করেনি। কিছুক্ষণ পর দেখলাম একজন লোক আসলো আর আমাকে আর মাকে নিয়ে গেল। মাতববরকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। সকাল বেলা গ্রামের সবাই মিলে বিচারে বসলো। সবার একটা কথা যে ছোট বেলা থেকে যে মানুষটা লালন পালন করেছে তাকে আজ ছুরি দিয়ে আঘাত করেছি! কেউ আমার কথা শুনতেও চাইলো না। আমার উপর বসিয়ে দিল চোরের অপবাদ। খোকা তখন ফিরে এসেছে কিন্তু সে নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কোন সাডা শব্দ নাই – সে পাথর হয়ে গেল। বিচারের সিদ্বান্ত হলো যে আমাকে পঞ্চাশবার বেত মারা হবে, গ্রাম ছেড়ে দিতে হবে আর পা ধরে ক্ষমা চাইতে হবে।

আমার মাথার উপর আকাশ ভেঙে পডলো। কোনও দোষ না করেও আজ দোষী! ইচ্ছে করছিল নিজের জান নিজে নিয়ে নিতে। শুরু হল বেত মারা। মা ছুটে গেল আমার প্রাণ ভিক্ষা যাইতে। তখন বুঝতে বাকি রইলো না যে আমাদের মত গরীবদের আপন বলতে কেউ নেই। আমার নিজের ভালবাসাকে জীবন্ত কবর দিয়ে মা আর আমি দুজন মিলে চলে এলাম অচেনা অজানা এক নতুন ঠিকানায়। আজও খুব মনে পড়ে খোকাকে। সে ছিল আমার প্রথম ভালবাসা।

What's your reaction?
0Smile0Angry0LOL1Sad1Love

Add Comment